স্বরের সঙ্গে স্বরের যে সন্ধি হয় তাকে কোন সন্ধি বলে?

Updated: 1 year ago
  • স্বরসন্ধি
  • ব্যঞ্জনসন্ধি
  • বিসর্গসন্ধি
  • স্বর-ব্যঞ্জন সন্ধি
690
ব্যাখ্যাঃ

দুটি স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে। অর্থাৎ, স্বরের সঙ্গে স্বরের যে সন্ধি হয়, সেটিই স্বরসন্ধি।

উদাহরণস্বরূপ:

  • বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয় (এখানে 'আ' স্বরধ্বনি + 'আ' স্বরধ্বনি = 'আ' স্বরধ্বনি)
  • হিম + আলয় = হিমালয় (এখানে 'অ' স্বরধ্বনি + 'আ' স্বরধ্বনি = 'আ' স্বরধ্বনি)
  • রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র (এখানে 'ই' স্বরধ্বনি + 'ই' স্বরধ্বনি = 'ঈ' স্বরধ্বনি)

অন্যান্য সন্ধিগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

  • ব্যঞ্জনসন্ধি: স্বরের সঙ্গে ব্যঞ্জনের, ব্যঞ্জনের সঙ্গে স্বরের অথবা ব্যঞ্জনের সঙ্গে ব্যঞ্জনের যে মিলন হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন: দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।
  • বিসর্গসন্ধি: বিসর্গের সঙ্গে স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয়, তাকে বিসর্গসন্ধি বলে। যেমন: মনঃ + যোগ = মনোযোগ।
  • স্বর-ব্যঞ্জন সন্ধি: এটি ব্যঞ্জনসন্ধিরই একটি অংশ, যেখানে স্বরধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনির মিলন ঘটে। এটি স্বতন্ত্র কোনো সন্ধি প্রকার নয়।
Satt AI
Satt AI
4 days ago

পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। পৃথিবীর বহু ভাষায় পাশাপাশি শব্দের একাধিক ধ্বনি নিয়মিতভাবে সন্ধিবদ্ধ হলেও বাংলা ভাষায় তা বিরল। যেমন 'আমি এখন চা আনতে যাই' বাংলা ভাষার এই বাক্যটিকে সন্ধির সূত্র অনুযায়ী 'আম্যেখন চানতে যাই' বলা যায় না। তবে বাংলা ভাষায় উপসর্গ-প্রত্যয় দিয়ে এবং সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।

সন্ধি তিন প্রকার: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি।

১. স্বরসন্ধি

স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

সূত্র-১: অ/আ+অ/আ = আ। যেমন - উত্তর-অধিকার উত্তরাধিকার, আশা+অতীত = আশাতীত 

সূত্র-২: ই/ঈ+ই/ঈ = ঈ। যেমন - অতি+ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়, পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা 

সূত্র-৩: উ/ঊ-উ/ঊ = উ। যেমন - মরু+উদ্যান = মরূদ্যান 

সূত্র-৪: অ/আই/ঈ = এ। যেমন - শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা 

সূত্র-৫: অ/আ+উ/ঊ = ও। যেমন - সূর্য উদয় = সূর্যোদয় 

সূত্র-৬: অ/আ+ঋ = অর্। যেমন - মহাঋষি = মহর্ষি 

সূত্র-৭: অ/আ+ঋত = আর্। যেমন - শীতঋত = শীতার্ত 

সূত্র-৮: অ/আ+এ/ঐ = ঐ। যেমন - জন+এক = জনৈক 

সূত্র-৯: অ/আ+ও/ঔ = ঔ। যেমন - বন+ওষধি = বনৌষধি 

সূত্র-১০: ই/ঈ+অন্য স্বর য+স্বর। যেমন - প্রতি+এক = প্রত্যেক 

সূত্র-১১: উ/ঊ-অন্য স্বর বৃস্বর। যেমন - সু+অল্প = স্বল্প 

সূত্র-১২: ঋ+অন্য স্বর = র্স্বর। পিতৃ+আলয় = পিত্রালয়

সূত্র-১৩: এ+ অন্য স্বর = অম্+স্বর। যেমন - শে+অন = শয়ন 

সূত্র-১৪: ঐ+ অন্য স্বর = আস্-স্বর। যেমন - নৈ+অক = নায়ক 

সূত্র-১৫: ও + অন্য স্বর অব্‌+স্বর। যেমন - গো+আদি = গবাদি 

সূত্র-১৬: ঔ+ অন্য স্বর আব্‌-স্বর। যেমন - নৌ+ইক = নাবিক।

 

কিছু স্বরসন্ধি সূত্র অনুসরণ করে না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে। যেমন কুল+অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)। গো+অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবক্ষ হওয়ার কথা) ইত্যাদি।

২. ব্যঞ্জনসন্ধি

ঘরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

ক. স্বর+ব্যঞ্জন

স্বর+ছ = স্বর+চচ্ছ। যেমন কথা+ছলে কথাচ্ছলে, পরি+ছেদ = পরিচ্ছেদ। 

এখানে পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরবর্তী ছ-এর জায়গায় চচ্ছ হয়েছে।

খ. ব্যঞ্জন+স্বর

ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড (ড়)/দ/ব। যেমন দিক্+অন্ত দিগন্ত, সৎ+উপায় সদুপায়

স্বরধ্বনিগুলো ঘোষবৎ হয়। এখানে ঘোষবৎ স্বরধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘোষ ধ্বনি (ক, চ, ট, ত, প) পরিবর্তিত হয়ে ঘোষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।

গ. ব্যঞ্জন+ব্যঞ্জন

ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন- 

চলৎ-চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ)

বিপদ্‌+জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ) 

উৎ+লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল) 

বাক্+দান = বাগ্দান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)

তৎ+মধ্যে = তন্মধ্যে (এখানে নাসিক্য ধ্বনি ম-এর প্রভাবে ত হয়েছে ন) 

শম্+কা = শঙ্কা (এখানে কণ্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঙ) 

সম্+চয় = সঞ্চয় (এখানে তালব্যধ্বনি চ-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঞ) 

সম্+তাপ = সন্তাপ (এখানে দন্ত্যধ্বনি ত-এর প্রভাবে ম হয়েছে ন) 

সম্+মান = সম্মান (এখানে ওষ্ঠ্যধ্বনি ম-এর প্রভাবে ম অপরিবর্তিত রয়েছে) 

ষম্+থ = ষষ্ঠ (এখানে মূর্ধন্যধ্বনি ষ-এর প্রভাবে থ হয়েছে ঠ)।

কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন গো+পদ = গোষ্পদ, এক+দশ = একাদশ, বৃহৎ+পতি বৃহস্পতি ইত্যাদি।

৩. বিসর্গসন্ধি

বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:

১. বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃপতন = অধঃপতন, বয়ঃসন্ধি = বয়ঃসন্ধি 

২. বিসর্গ 'ও' হয়ে যায়: মনঃ+যোগ – মনোযোগ, তিরঃ-ধান = তিরোধান, তপঃ+বন = তপোবন 

৩. বিসর্গ 'র' হয়ে যায়: নিঃ-আকার নিরাকার, পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ

৪. বিসর্গ শ/ষ/স্ হয়: নিঃ+চয় = নিশ্চয়, দুঃ+কর = দুষ্কর, পুরঃ+কার = পুরস্কার

৫. কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ+রব = নীরব, নিঃ+রস = নীরস, নিঃ+রোগ = নীরোগ।

Related Question

View All
Updated: 9 months ago
  • গবাদি
  • কুলটা
  • একাদশ
  • বৃহস্পতি
422
  • শিত+ঋত
  • শীত+আর্ত
  • শিত+আর্ত
  • শীত+ঋত
263
Updated: 9 months ago
  • গবাক্ষ
  • কুলটা
  • জনৈক
  • একাদশ
260
  • উত্তরাধিকার
  • শয়ন
  • অতীন্দ্রিয়
  • নাবিক
268
  • বৃহস্পতি
  • সন্তাপ
  • ষষ্ঠ
  • চলচ্চিত্র
192
  • কুলটা
  • স্বল্প
  • মরুদ্যান
  • علم الامين
174
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই